স্ক্যান্ডাল বিতর্কঃ এখনো প্রভার রাগ যেখানে

প্রভা অন্যের জন্য শুভ কামনা করলেন বটে, কিন্তু নিজের বিয়ে টেকাতে পারেননি। করপোরেট কর্মকর্তা মাহমুদ শান্তর সঙ্গে টানাপোড়েন অবশেষে বিচ্ছেদে গড়ায়। এরই মধ্যে বছর তিনেক নিজেকে আড়াল করে রাখা প্রভা ২০১৪ সালে আবার মিডিয়ায় ফিরে আসেন। এক বছরের বেশি সময় আলাদা থেকে ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে শান্ত-প্রভার ডিভোর্স হয়ে যায়। এরপর কার‌্যত একা হয়ে পড়েন প্রভা।

আর একা কেমন আছেন প্রভা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি উত্তর দিতে নারাজ। কেননা, সেই স্ক্যান্ডাল বিতর্কে এখনও রেগে আছেন তিনি। অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রতি নাকি তার রয়েছে বিরাগ। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অনলাইন নিউজ পোর্টালে এখন সাক্ষাৎকার দেই না। কিছু মনে করবেন না। পরে কোনো সময় কথা হবে।’

কেন তিনি কোনো অনলাইন পোর্টালকে সাক্ষাৎকার দেন না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালে একটি স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে পড়েছিলেন এই অভিনেত্রী। সে সময় দেশের বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল সেই স্কান্ডালে রং-রস দিয়ে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করে। আর তাতে আরো বেশি হেনস্তার শিকার হন প্রভা। এরপর থেকেই তিনি এড়িয়ে চলেন অনলাইন পোর্টাল।

বিষয়টি ছিল প্রেম-ভালোবাসার। ২০১০ সালের ১৬ এপ্রিল প্রভার বাগদান হয় তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক রাজীবের সঙ্গে। কিন্তু সেটি আর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় গড়ায়নি। কারণ ইতিমধ্যে অভিনেতা অপূর্বর সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন প্রভা। এমনকি তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়েও করে ফেলেন। ওই বছরের ১৯ আগস্ট তারা মালাবদল করেন।
খবরটি চাউর হতেই হট্টগোল লেগে যায় বিনোদনজগতে। বাগদান হওয়া স্বামীকে বিয়ে না করে অন্য একজনকে জীবনসঙ্গী করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এই মডেল অভিনেত্রী। ক্ষুব্ধ হন সাবেক প্রেমিক রাজীব। অপূর্বর ঘরণী হওয়ার আগে ইউটিউবে ফাঁস হয় প্রেমিক রাজীবের সঙ্গে কাটানো কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। প্রভা জড়িয়ে পড়েন জীবনের জটিল পঙ্কে।

ফলে অপূর্বর সংসারও করা হয়নি প্রভার। ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় তাদের। অপূর্ব ডিভোর্স দেন প্রভাকে। দুজনের দুটি পথ আলাদা হয়ে যায়।

মজার ব্যাপার হলো ২০১০ সালেরই ১৯ ডিসেম্বর অপূর্ব ও প্রভা আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। পারিবারিক পছন্দে প্রভা বিয়ে করেন মাহমুদ শান্ত নামের একজন করপোরেট চাকরিজীবীকে। আর অপূর্বর সংসারে আসেন নাজিয়া হাসান অদিতি। অপূর্ব-নাজিয়ার ঘর এখন আলো করে আছে একটি ছেলেসন্তান।

অপূর্বর বিয়ে নিয়ে পরে প্রভা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি খুব খুশি হয়েছি অপূর্ব তার মনের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজে নিয়েছে। সবারই নিজের জীবন গুছিয়ে নেয়ার অধিকার আছে। আমি মন থেকে অপূর্ব ও তার স্ত্রীর জন্য দোয়া করি, আল্লাহ তাদের ভালো রাখেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*