পরকালে নবিদের ধর্ম প্রচারের সাক্ষী উম্মাতে মুহাম্মাদি

আল্লাহর সৃষ্টিতে মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। উম্মাতে মুহাম্মাদি আল্লাহ তাআলার নিকট পছন্দনীয় উম্মত। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁদের পছন্দনীয় কিবলাকে তাদের জন্য নির্ধারণ করছেন। আবার তাদেরকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন এভাবে যে, তারা পরকালে দুনিয়াবাসীর জন্য দ্বীনি কাজের সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবেন। কারণ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বসেরা বলেই তাদের পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত, সরল-সঠিক পথ এবং সুস্পষ্ট জীবন-ব্যবস্থা ইসলামে দেয়া হয়েছে। তাই উম্মাতে মুহাম্মাদি হবে পরকালে দুনিয়ারবাসীর দ্বীনি কাজের সাক্ষী। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে একটি মধ্যমপন্থী জাতিতে পরিণত করেছি। যাতে তোমরা দুনিয়াবাসীদের ওপর সাক্ষী হতে পার এবং রাসুল হতে পারেন তোমাদের ওপর সাক্ষী। আপনি এ যাবত যে ক্বিবলার অনুসরণ করেছিলেন, তা এই উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম, যাতে আমি জানতে পারি যে, কে রাসুলের অনুসরণ করে এবং কে ফিরে যায়? আল্লাহ যাদেরকে সৎ পথে পরিচালিত করেছেন, তারা ছাড়া অন্যের কাছে এ (পরিবর্তন) নিশ্চয় কঠিন ব্যাপার। আর আল্লাহ এরূপ নন যে, তিনি তোমাদের বিশ্বাসকে (ঈমান তথা নামাজ) ব্যর্থ করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রতি স্নেহশীল ও করুনাময়।’ (সুরা বাক্বারা : আয়াত ১৪৩)

এ আয়াত উম্মাতে মুহাম্মাদির নেতৃত্বের ঘোষণাবাণী। এখানে ব্যবহৃত ‘মধ্যপন্থী উম্মত’ শব্দটি অত্যন্ত মর্যাদা ও তাৎপর্যের অধিকারী। এর অর্থ হলো- এ জাতি এমন এক উৎকৃষ্ট এবং উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন দল, যারা নিজেরা ইনসাফ, ন্যায়-নিষ্ঠা ও ভারসাম্য নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দুনিয়ায় আগমনকারী সকল জাতির মধ্যে যারা কেন্দ্রীয় আসন লাভের যোগ্যতা রাখে; সত্য ও সততার ভিত্তিতে সবার সঙ্গে যাদের সম্পর্ক সমান এবং কারো সঙ্গেই যাদের কোনো অবৈধ ও অন্যায় সর্ম্পক নাই; যে কারণে উম্মতে মুহাম্মাদি অন্যান্য নবি-রাসুলদের তথা দুনিয়াবাসীর দ্বীনি কার্যক্রমের সাক্ষী হবেন।

পরকালে আল্লাহ তাআলা যখন পৃথিবীর শুরু থেকে যত নবি-রাসুল দায়িত্বশীল প্রেরণ করেছেন; তাঁদের সবাইকে দ্বীনি দাওয়াতের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন যে, আমি তোমাদেরকে আমার দ্বীনের সুস্থ ও সঠিক চিন্তা, সৎকাজ ও সুবিচারের যে শিক্ষার দাওয়াতের দায়িত্ব দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলাম। তোমরা কি আমার দ্বীনের যথাযথ দাওয়াত মানুষের কাছে পেশ করেছ? সবাই বলবে হ্যাঁ।

তখন তাদের উম্মতদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে যে, তোমাদের কাছে আমার দ্বীনের দাওয়াত পৌছেছে কি? তখন অন্যান্য নবির সব উম্মতই দ্বীনি দাওয়াত পাওয়ার কথা অস্বীকার করবে।

তখন সকল নবি-রাসুলগণকে সাক্ষী উপস্থিত করতে বলা হবে। তখন তারা বলবে- মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর উম্মতগণ আমাদের সাক্ষী। এ আয়াতে মুসলিম উম্মাহর মর্যাদার দিকে সম্বোধন করেই বলেন, আমি ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক করে তোমাদেরকে মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছি এবং তোমরা দুনিয়াবাসীর কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হবে। আর রাসুল হবে তোমাদের সাক্ষী।

এ আয়াতের মর্মার্থ অনুযায়ী মুসলিম উম্মাহর উচিত, মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে ন্যায়-নীতি ও ইনসাফপূর্ণ জীবন-যাপন করা। কুরআন অনুযায়ী সঠিক পথে নিজেদেরকে পরিচালিত করা। ইসলামের বিধান ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা ঈমানের অপরিহার্য দাবি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন যাপনের মাধ্যমে মধ্যপন্থী, ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীকস্বরূপ শ্রেষ্ঠ বান্দা হওয়ার এবং শ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করার তাওফিক দান করুন। ইসলামের সঠিক মতাদর্শ ও সৌন্দর্য মানুষের কাছে তুলে ধরার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*